সারা দেশে চালের বাজার অস্থির

নিউজ ডেস্ক:

পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখে দেশব্যাপী চালের বাজার অস্থির করে তুলছেন মিল মালিকরা। রাজধানীতে সপ্তাহ ব্যবধানে চালের দাম বস্তায় বেড়েছে ২০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত। পাইকারদের অভিযোগ, অর্ডারের টাকা নিয়েও চাল দিচ্ছে না মিলাররা। এ অবস্থায় শুল্ক তুলে দিয়ে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি সরু চাল সর্বোচ্চ ৬৭ ও মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তিন মাস আগে যথাক্রমে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫৭ ও ৫০ টাকা। যা স্মরণকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরু চালের মধ্যে প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা। যা তিন মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তায় দাম বাড়ানো হয়েছে ৬০০ টাকা। পাশাপাশি মাঝারি আকারের চালের মধ্যে বিআর-২৮ জাতের চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। যা তিন মাস আগে ছিল ২ হাজার-২ হাজার ৫০ টাকা। আর মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০-২ হজার ২০০ টাকা। যা তিন মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সরকারি গুদামে চালের মজুদ কমছে হু-হু করে। গত বছর এ সময় সরকারি গুদামে চাল ছিল সাড়ে ১০ লাখ টন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন চাল মজুদ আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রথম ওয়েভে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সহায়তা চলমান আছে। এতে সরকারি গুদামে চালের মজুদ কমায় মিলাররা কারসাজি করছে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, আমন চাল সংগ্রহে মিলারদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও আমরা তাদের চাল দেয়ার সুযোগ খোলা রাখব। তারপরও যদি তারা সরকারকে চাল না দেয় তাহলে চাল আমদানি করে প্রয়োজন মেটানো হবে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানির বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আশা করি দাম কমবে।

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap