শাবিপ্রবি’র পাঠ্যসূচিতে আসছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

ইমরান হোসেন, শাবিপ্রবি

একাত্তরের ৭ মার্চ যে ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণকে অ্যাকাডেমিক সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ শিরোনামে একটি কোর্সের অংশ হিসেবে এ ভাষণ পড়ানো হবে।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে এবং হাই কোর্টের নির্দেশনায় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই ভাষণকে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

সেই আলোকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণসহ ‘স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ শিরোনামে একটি কোর্স ডিজাইন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

কোর্সটি কত ক্রেডিটের হবে, কীভাবে পড়ানো হবে, কোন বিভাগের অধীনে পড়ানো হবে- এসব বিষয় ঠিক করে কোর্স ডিজাইন করতে একটি কমিটিও করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ফয়সল আহম্মদকে সভাপতি করে গঠিত সাত সদস্যের ওই কমিটিতের অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আশফাক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবু দেলোয়ার হোসেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লাইলা আশারাফুন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. ইসমাইল হোসেন।

উপাচার্য জানান, এই কমিটির কাজ শেষ হলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র। এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। ২০১৭ সালে এ ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এ ভাষণ আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জানা উচিত।”

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

গেল বছর থেকে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পাঠ্যসূচিতে ‘আত্মজৈবনিক রচনা’ শিরোনামে ২২৬ নম্বর কোর্সের অংশ হিসেবে পড়ানো হচ্ছে।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap