ভিজিএফের কার্ড দেয়ার কথা বলে নারী ধর্ষণ, আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক:

নাটোরে ভিজিএফের কার্ড করে দেয়ার কথা বলে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইব্রাহিম দেওয়ান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইব্রাহিম দেওয়ান ও তার সহযোগী বকুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইব্রাহিম উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সহযোগী বকুল হোসেন একই এলাকার আবেদ আলীর ছেলে। তার বাড়ি উপজেলার বাঁশভাগ পূর্বপাড়ায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মৃধা।

নলডাঙ্গা থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মৃধা বলেন, গত বছরের ৩ অক্টোবর বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নে এক দিনমজুরের স্ত্রীকে ভিজিএফের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেন ইব্রাহিম। পরে ওই নারীকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। এসময় তার দুই সহযোগী বকুল ও রেজাউল ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করেন। ঘটনাটি যাতে কেউ না জানে সেজন্য ইব্রাহিম তাকে ভয় দেখান ও নজরদারিতে রাখেন। এমনকি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই মাস পর শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নলডাঙ্গা থানায় ওই নারী বাদী হয়ে ইব্রাহিম, বকুল হোসেন ও রেজাউল করিমকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম ও বকুলকে গ্রেপ্তার করে। তার অপর সহযোগী একই গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে রেজাউলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এ ব্যাপারে পিপরুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন জানান, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ড দেওয়ার নামে ইব্রাহিম দেওয়ান যে নোংরামী করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তিনি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। তাই এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাটাইমস/মাসুদ

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap