ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড-এর জন্য অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন

Share This:

বাংলা টাইমস ডেস্ক:

কিভাবে অনলাইনে ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়।

অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারে আজকে প্রথম শুনছেন এবং ভাবতেই পারছেন না যে এটা আসলেই সম্ভব কিনা। কিন্তু আমি আপনাদের আজ দেখাবো, কিভাবে এই কাজটি আপনারা সহজেই কর‍তে পারবেন।

তো চলুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের মূল আলোচনা শুরু করা যাক।

অনলাইনে ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদনের নিয়মাবলী:

ডিজিটাল জামানায় এখন সবকিছুই যেনো হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। যেসব জিনিস আমাদের ১০ বছর আগেও অফিসে বা বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে, বা ব্যাংকের লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে করতে হতো, সেসব কাজ এখন আমরা ঘরে বসেই নিজেদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে করতে পারি।

যেমন- ভেবে দেখুন, আমাদের ৫ বছর আগেও বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলে কত বিশাল লাইনে দাড়িয়ে ব্যাংকের নির্দিষ্ট ব্রাঞ্চে জমা দিতে হতো। কতো ঝামেলা পোহাতে হতো, কাগজপত্র সামলে রাখার ঝামেলা ছাড়াও আরও কতো কি।

কিন্তু বর্তমানে, আমরা অনলাইন জগতের আমূল পরিবর্তনের জন্য এখন বাসায় বসেই অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে যেকোনো বিল পে করতে পারি কোনো ঝামেলা ছাড়াই। বিভিন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়টিও একইরকম।

আমাদের আগে হয়তো ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার জন্য, একটি নতুন একাউন্ট খোলার জন্য অথবা কোনো কার্ডের জন্য আবেদন করতে গেলে অফিসিয়াল অনেক কার্য সম্পাদন করতে হতো।

কিন্তু এখন ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায়, এই কাজটিও আমরা করতে পারি ঘরে বসেই। এখন আমরা আমাদের ব্যাংক একাউন্ট সামলানো থেকে শুরু করে, ডিপোজিট বা অনলাইনে ভার্চুয়াল ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডও পেয়ে যেতে পারি নিমেষেই।

আমরা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে পরে কোনো এক পোস্টে আলোচনা করবো, আজ আপনাদের জানাবো কিভাবে অনলাইনেই আপনারা ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদনের কিছু বিষয়াবলী ও পদক্ষেপসমূহ:

বর্তমানে আমরা খুব সহজেই চাইলে নিজেদের দরকারী ডকুমেন্টগুলো ব্যবহার করে, বাসায় বসেই অনলাইন ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারি।

যেসব ডকুমেন্টগুলো আমাদের ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে দরকার হয়, অনলাইনেও প্রায় সেসব জিনিসগুলোই লাগে তবে এগুলোর অনলাইন কপি কিংবা ছবি তুলে সাবমিট করতে হয়।

যেমন ধরুন, এখানে আবেদন করতে গেলে আপনার ইনকাম প্রুফের ডকুমেন্ট দিতে হবে যেটা অনলাইন কপি হওয়া বাধ্যতামূলক। আবার আপনার ভোটার আইডি কার্ডও লাগবে যেটার পরিষ্কার ছবি তুলে সাবমিট করতে হবে।

ব্যাংকে গিয়ে আবেদন এবং অনলাইনে আবেদনের ভিতরে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে ব্যাংকে কিছু আলাদা ইনডিভিজুয়াল কাগজ পত্রাদি লাগে আবার অনলাইনে কিছু বিশেষ অন্যান্য ডকুমেন্টস বা ইনফরমেশন লাগে।

সেগুলো কি আসুন আপনাদের বিস্তারিত জানানো যাক।

অনলাইন ক্রেডিট কার্ড আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ:

১. অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী দিতে হবে। যেমন- নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস ছাড়াও আরও ইত্যাদি।

২. নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর অনলাইন কপি বা ক্লিয়ার ইমেজ, ভোটার আইডির দুইপাশের পরিষ্কার ছবি জমা দিতে হবে যেটা আপনি বাসায় বসেই করতে পারবেন খুব আরামেই।

৩. এরপর আপনার চাকরি বাকরি বা ব্যবসায় অর্থাৎ আপনার পেশা বা আয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য দিতে হবে। যেমন- আপনার আয়, কোন ধরনের পেশায় নিযুক্ত, কোম্পানী বা ব্যবসায়ের নাম, বার্ষিক আয় বা বেতন, কোয়ালিফিকেশন, ইনকাম প্রুফ ডকুমেন্ট ছাড়াও আরও কিছু ডকুমেন্টস।

তবে এগুলো অনলাইন কপি হলেও চলবে বা ছবি তুলেও সাবমিট করলে হবে। এগুলোর জন্যও আপনাকে ঝামেলা পোহাতে হবে না কারণ এগুলোও সাধারণত সবার কাছে থেকেই থাকে।

৪. এরপর আসবে আপনার ঠিকানার প্রমাণ পাওয়ার জন্য কিছু ডকুমেন্টস। এগুলো হচ্ছে রেশন কার্ড, গ্যাস বা জলের বিল, বিদ্যুৎ বিল, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর অনলাইন কপি বা ছবি সাবমিট করতে হবে।

৫. আপনার প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের প্রমাণপত্র দরকার হবে। এছাড়াও শেষে আপনাকে আপনার ক্যামেরা দিয়ে একটি ছবি তুলে সাবমিট করতে হবে এটা প্রমাণের জন্য যে আপনিই আবেদন করছেন এবং আপনার ব্যক্তিত্ব বোঝানোর জন্য।

৬. এসব ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তার কিছু হেরফের হতে পারে, তবে মূল কাগজপত্র এগুলোই দরকার হয়ে থাকে। আপনারা এসব জিনিসগুলো সাধারণত সবাই বহন করে থাকেন তাই অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

৭. এরপর আপনার সকল তথ্য পর্যালোচনা করার কিছু সময় পর, সকল তথ্য সঠিক থাকলে, আপনাকে একটি ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড প্রদান করবে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

তবে এর মাঝখানে ব্যাংক কতৃপক্ষ আপনাকে কল করতে পারে বা আপনার সম্বন্ধে অনলাইনে খোজ খবর নিতে পারে, তাই এসব ক্ষেত্রে অনেক সাবধান থাকবেন ও সঠিকভাবে সকল তথ্য সরবরাহ করবেন নতুবা সমস্যার সম্মুক্ষীণ হতে পারেন।

এই কার্ড হয়তো অনলাইনেই শুধুমাত্র ব্যবহারযোগ্য হবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ ও অর্থ লিমিট করা থাকবে। অনলাইনে যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনি এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন নির্দিষ্ট লিমিট ও সময় অব্দি।

Loading...