বন্ধু অমিতাভকে ‘স্যরজি’ না বলায় কাদের খানকে ফিল্ম থেকে বার করে দেওয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক:

৩০০-র বেশি ফিল্মে অভিনয় করেছিলেন কাদের খান। ২৫০-র বেশি ফিল্মের জন্য ডায়ালগ লিখেছিলেন তিনি।

কখনও তিনি অভিনয় নিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন আবার কখনও তাঁর কলম থেকেই উঠে এসেছে সেরার সেরা সব স্ক্রিপ্ট।

এহেন একজন বহুমুখী প্রতিভার মানুষকে একবার ফিল্ম থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র প্রায় সমসাময়িক আর এক অভিনেতাকে ‘স্যরজি’ না বলার জন্য!

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কানাডায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় কাদের খানের। মৃত্যুর পর তাঁর পুরনো এক সাক্ষাৎকার খুব সাড়া জাগিয়েছিল।

সেই ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে কাদের নিজেই এ কথা জানিয়েছিলেন। আর যাঁর সম্পর্কে এই অভিযোগ করেছিলেন তিনি কে জানেন? বিগ বি অমিতাভ বচ্চন!

কাদের খানের সেই ভিডিয়ো সাক্ষাৎকার সামনে আসার পর জলঘোলা হয়েছিল এ নিয়ে। যদিও অমিতাভ নিজে এ ভিডিয়োর বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

ওই ভিডিয়ো থেকেই বোঝা গিয়েছিল তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব কেন ‘তিতকুটে’ হয়ে গিয়েছিল। অভিতাভ তখন বলিউডের শাহেনশা হয়ে ওঠেননি। সেই সময় থেকেই দু’জনের বন্ধুত্ব। তাই অমিতাভকে ‘অমিত’ বলে ডাকতেই অভ্যস্ত ছিলেন কাদের।

তেমনই এক ফিল্মে কাজ করার সময় অভ্যাসবশত অমিত বলেই সম্বোধন করছিলেন কাদের। তিনি জানতেন না তার জন্য এত বড় খেসারত দিতে হবে তাঁকে।

ফিল্মের নাম কী তা ওই ভিডিয়োয় খোলসা না করেই কাদের বলেছিলেন, ‘‘এক প্রযোজক আমাকে জিজ্ঞাসা করেন স্যরজির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে কি না।’’

কাদের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তখন পাশ দিয়ে অমিতাভ যাচ্ছিলেন। প্রযোজক অমিতাভকে দেখিয়ে বলেন, ‘‘ওই যে লম্বা লোকটা। গোটা বলি ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে স্যরজি বলেই ডাকে।’’

এটা শুনে হেসে ফেলেছিলেন কাদের। ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা ভাইকে ‘স্যরজি’ কোনওভাবেই বলা সম্ভব না, সাফ জানিয়ে দেন তিনি। আশেপাশে সকলেই অবাক হয়েছিলেন তাঁর কথায়। কথাটা নাকি অমিতাভের কানেও পৌঁছয়। আর এর পরই কাদেরের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁকে নাকি সেট থেকে বার করে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার অনেক বছর পরও যখন ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে কাদের ঘটনাটি বলছিলেন, তাঁর গলায় বিষাদের সুর বাজছিল।

কাদের খানের মৃত্যুর পর সৌজন্য বজায় রেখে টুইটে তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েছিলেন অমিতাভ। লিখেছিলেন, ‘কাদের খান চলে গেলেন। খুবই দুঃখের খবর। ফিল্মি দুনিয়ার সব থেকে প্রতিভাবান অভিনেতা। আমার বহু সফল ছবির লেখক। সঙ্গে এক জন গণিতবিদও।’

সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap