ফরেন এডুকেশন কন্সাল্টেন্সী সেক্টরে অনন্য অবদান রেখে চলেছে ‘ফ্যাডক্যাব’

Share This:

মাহমুদুল হাসান (সিইও, অজিহা কন্সাল্টেন্সী)

ফ্যাডক্যাব হচ্ছে ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলাপমেন্ট কন্সাল্টেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যে সকল ব্যবসায়ী কাজ করছেন তাদের ব্যবসায়িক সংগঠন। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সংগঠন এফবিসিসিআই এর এ+ ক্যাটাগরীর অনুমোদিত সংগঠন ।

ছবি: মাহমুদুল হাসান

এবার আসি ফ্যাডক্যাব নিয়ে কিছু জেনে নেয়া যাক কিংবা কেনইবা এই সংগঠনের প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ চলছে আশির দশকের শেষ থেকেই। যাদেরকে আমরা এক কথায় কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ী বলে সম্বোধন করে থাকি । যে সকল ছাত্র ছাত্রীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্বের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজে ভর্তির ব্যবস্থাই ছিলো ঐ সকল কন্সাল্টেন্সী প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ। ভর্তির ব্যবস্থা হয়ে গেলে কেউ কেউ স্কলারশীপ পেত। তবে অধিকাংশই নিজ খরচে পড়তে যেত। যারা নিজ খরচে যেত তাদের টিউশন ফি, হোস্টেল ফিস ইত্যাদি পৌছানোর জন্য অভিভাবকরা ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের উপর অনেকটা দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে চাইতেন । তারপর চলত ঐ সব টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া। তখনকার দিনে এত এত ব্যাংক ছিলোনা যে স্টুডেন্ট চাইলেই খুব সহজেই এক দেশ থেকে আর এক দেশে টাকা পাঠাতে পারতো না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদেরকে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে হতো। এভাবেই শুরু কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ের।

ছবি: মাহমুদুল হাসান

বাংলাদেশে সেই সময়ে হাতে গোনা অল্প সংখ্যক কয়েকটি কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কাজ করতো বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে। সময়ের আবর্তনে এ সেক্টরের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। যখন প্রতিষ্ঠান বাড়তে থাকে সেই সাথে ব্যবাসায়িক নানা জটিলতাও সৃষ্টি হতে থাকে । যা কিনা ব্যবসায়ী-ছাত্র/ছাত্রী দুইয়ের স্বার্থে আঘাত আসতে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে তখনকার দিনে এই সেক্টরের শীর্ষ কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ীরা অনুভব করতে থাকেন তাদের নিজেদের স্বার্থে একতাবদ্ধ হওয়াটা অনেক বেশি জরুরী । যাতে করে প্রতিনিয়ত উদ্ভুত নানান জটিলতার অবসান করা যায়। ১/২ টা আঙ্গুলে তো শক্তি থাকে না। যখন ৫ আঙ্গুল এক হবে আর তার সাথে যুক্ত হবে অজস্র আঙ্গুল তখন এক মুষ্টি থেকে অনেক অনেক মুষ্টির সৃষ্টি হবে আর এই সকল মুষ্টি মিলিত হয়ে হবে বিশাল এক শক্তি।

অবশেষে ২০০৫ সালে তাদের সেই অনুভব চুড়ান্ত রূপ নেয় এই সেক্টরের অভিভাবক ব্যবসায়ী বিএসবির কর্নধার জনাব এম কে বাশার ভাইয়ের আহবানে। সেই থেকে শুরু হয় ফ্যাডক্যাবের পথচলা। আজও চলছে অত্যন্ত সুনামের সাথে। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ছিলো এই সেক্টরের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ  সংরক্ষনের সাথে সাথে সেবা গ্রহিতাদের ন্যায্যতা পূর্ন করা। এই সেক্টর থেকে সুবিধা নিয়ে কেউ আর অন্যায় করে পার পেতে পারবেন না তেমনি ভাবে কন্সাল্টেন্সী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে তাদের সার্ভিস চার্জ না দিয়ে কেউ বিদেশ যেতে পারবেন না। সংগঠনটি এ বিষয়গুলির উপর অত্যন্ত জোড়ালো ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হয়ে আসছে সংগঠনটি। প্রতি দুবছরের জন্য নির্বাচিত হয় কার্যকরী কমিটি । সর্বশেষ ২০২০ এর ৪ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই নির্বাচনে একক প্রাথী হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী এবং সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ছিলে দুজন। তাদের মধ্যে মনিরুল হককে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন গাজী তারেক ইবনে মোহাম্মাদ।

বর্তমানে প্রায় চার শতাধিক কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ী এই ফ্যাকডক্যাবের পতাকা তলে এসেছেন যার মধ্যে এই সেক্টরে বাংলাদেশের শীর্ষ সব ব্যবসায়ীরা আছেন। এই ব্যবসায়ের সব থেক কষ্টের জায়গা হচ্ছে কাজ শেষে পারশ্রমিক দিতে ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকদের গড়িমসী করা । সেই সাথে ব্যবসায়ীদের কিছু কিছু ভুলতো থেকেই যায় । কিন্তু আশার কথা হচ্ছে এখন যে পক্ষই সমস্যার সৃষ্টি করুকনা কেনো ফ্যাডক্যাব তা শক্ত হাতে পর্যালোচনা করে সমাধান করছেন। যা সংগঠনটির গ্রহনযোগ্যতা দিনে দিনে বৃদ্ধি করছে।

এই সংগঠনটির সদস্যরা খুব সহজেই পাচ্ছেন বিশ্বের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিপত্র । যার মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করতেও সহজ হচ্ছে। পৃথিবির অনেক দেশেই রয়েছে এরকম এসোসিয়েশন। তাই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় গুলির কাছে ফ্যাডক্যাবের আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সাথে ব্যাংকের একটি যোগসূত্র রয়েছে। ফ্যাডক্যাবের কল্যানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কিছু ব্যাংক দিচ্ছেন সহজ শর্তে স্টুডেন্ট লোন। যা এক সময়ে ছিলো অনেকটাই দুশপ্রাপ্য। শুধু লোনই না, ভর্তি ফিস এবং  টিউশন ফিস পাঠানো অথবা ফেরত আনার ক্ষেত্রে এখন আর কোন ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়না স্টুডেন্টদের। এসকল ব্যাংকের মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংক অন্যতম।

আর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য এখন সব থেকে নির্ভরতার কথা হচ্ছে একজন স্টুডেন্ট তার নিজস্ব একাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারেন এবং ভিসা রিফিউজ হলে সেই টাকা ফেরত আনতে পারেন। যার ফলে একজন কন্সাল্টেন্সী ব্যবসায়ীকে নিয়ে তার শংকার জায়গাটা থাকে একদম শূন্যের কোঠায়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে স্থায়িত্ব লাভ করছে এই সেক্টরটি।

ফ্যাডক্যাবের এসকল কার্যক্রম সরকারের নজরেও এসেছে। যার ফলে সরকারও চাইছে এই সেক্টরে যে বা যারাই ব্যবসা করবে তাদেরকে এই বানিজ্যিক সংগঠনটির সদস্য পদ নিতে হবে। খুব শীঘ্রই বানিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে এ ব্যাপারে পরিপত্র জারি হতে চলেছে।

গতবছর থেকে চলমান প্যান্ডামিকের সময় ফ্যাডক্যাব চেষ্টা করছে তার সদস্যদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়ে এগিয়ে নেওয়ার। যেমনিভাবে করোনা আক্রান্ত ভাইটির পাশে থেকেছে সার্বক্ষনিকভাবে। তেমনি গঠন করেছে ইমার্জেন্সী ফান্ড -যা কিনা একোটি সংগঠনের জন্য অন্যতম আশা জাগানিয়া ব্যাপার। সামাজিক দিক থেকেও পিছেয়ে নেই ফ্যাডক্যাব । প্রতিনিয়ত সংগঠনের ছোট ছোট ফান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়াগায় ত্রান বিতরন সহ নানাবিধ সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছে সংগঠনটি।

ফ্যাডক্যাব সদস্যদের মধ্যে বন্ডিংটা অত্যন্ত মজবুত করতে পেরেছে যা অনন্য একটি অর্জন। ছোট খাটো যে কোন বিপদে আপদে সুবিধা অসুবিধায় ঝাপিয়ে পড়ে সকল ভাই বোনেরা। যা ভ্রতৃত্বের বন্ধনের অনন্য এক নিদর্শন।

পরিশেষে বলতে পারি এ ব্যবসায় যে বা যারাই আসছেন বা আসতে চাইছেন ফ্যাকডক্যাব তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছে ভ্রাতৃত্বের এক পরিবেশ যা তার ব্যবাসায়িক বিস্তার ঘটাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে সেই সাথে পাবেন একঝাক অন্তর আত্মার ভাই ।

আর এভাবেই এগিয়ে যাবে ভালোবাসার ফ্যাডক্যাব।

Loading...