প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্ত্রীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে অবশেষে নিজেই ফেঁসে গেলেন রিটন মিয়া। উপজেলার মাস্কা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামের রিটন মিয়া ওরফে লিটন মিয়া তার স্ত্রী রহিমাকে হত্যা করে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি গঠিয়েছিল ২০১৬ সালে ২৯ ডিসেম্বর। ৪ বছর পর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে মামলার বাদী ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করেছে  পুলিশ । চাঞ্চল্য এ ঘটনায় বাদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সুত্র জানায়,  গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), পিবিআই, সিআইডিসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত শেষে গত ১০ই ফেব্রুয়ারী আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে রহিমা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কেন্দুয়া সার্কেল এএসপিকে দ্বায়িত্ব দেয়। কেন্দুয়া সার্কেলে দ্বায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ১৬ই ফেব্রুয়ারী মামলার দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান দ্বায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন যেতেই বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা’র কবলে পরে দেশ।

প্রকাশে ও গোপনে অনুসন্ধ্যান শুরু করলে পূর্বের ৩টি প্রতিবেদন এবং বাদীর বক্তব্যের প্রতি সন্দেহ হয় এএসপি’র। স্থানীয়দের ভাষ্য আর ৩ সংস্থার প্রতিবেদনের মিলও পাচ্ছিলেন না তিনি। বাদী রিটনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। গত ৮ই আগস্ট এ হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত রিটন মিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এএসপি মাহমূদুল হাসান। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ্য করেন, রহিমার হত্যা মামলার বাদী স্বামী রিটন মিয়া জন্মসুত্রে পানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নন। তিনি নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। নিহত রহিমা ছিলেন রিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ৬টার দিকে বাড়িতে রিটন মিয়া তার স্ত্রী রহিমা, ছেলে আসাদুল ও আতাউরকে নিয়ে শাবল, কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির আইল ভাঙ্গার জন্যে বকতে বকতে জমি আইলের দিকে যায়। রিটনের বকাবকির শব্দ পেয়ে নাজমুলের ছেলে রতন ঘটনাস্থলে যেতেই তার ওপর হামলা চালায় রিটন গংরা। এক পর্যায়ে রতন মাটিতে লুটিয়ে পরে। ছেলে আত্মচিৎকার শুনে নাজমুল ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও বেধরক মারপিট করে। এসময় রতনের মা দৌড়ে গিয়ে রক্তাক্ত ছেলেকে দেখে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে চিৎকার করতে থাকলে রিটন মিয়ার বুদ্ধিদাতা সবুজ মেম্বার লাইট মেরে রতনের অবস্থা দেখে রিটন মিয়াকে লক্ষ্য করে বলে‘ তুই তো মার্ডার কইরা লাইছচ’ রতন কিন্তু মইরা যাইতাছেগা,তুই কিতা করবি তাড়াতাড়ি কর’। এরপরই রিটন তার হাতে থাকা শাবল দিয়ে স্ত্রী রহিমাকে উপর্যুপুরি আঘাত করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে জহুরা নামে এক মহিলা সবুজ মেম্বারকে লক্ষ্য করে বলে যে, কি গো সবুজ মেম্বার, দেহনা রিটন যে, হের (তার) বউরে শাবল দিয়ে মাইরালাইতাছে, তুমি ফিরাওনা ? এই কথা বলতেই জহুরাকে সবুজ মেম্বার বারি মারলে জহুরা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এসময় অন্যরাও রহিমাকে বাচাঁনোর চেষ্টা করলে তাদেরকেও আঘাত করে। এসময় রিটনের ছেলে আসাদুল ও আতাউর তার মাকে বাচাঁনো চেষ্টা করলে তাদেরকেও রেহাই দেয়নি। মোহন, সুমন ও আলম তাদেরকে বেধরক মারধোর করে। এসময় রিটনের উপর্যুপুরি আঘাতে এক সময় স্ত্রী রহিমা নিস্তেজ হয়ে পড়লে আবার তারা রহিমাকে কেন্দুয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে রহিমা মারা যায়। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় রিটন মিয়া বাদী হয়ে ২০১৭ সালে ৪ জানুয়ারি কেন্দুয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রুজু করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Share via
Copy link
Powered by Social Snap