পুলিশ সুপার আনিসুল করিমের মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েছেন স্বজনরা

অনলাইন ডেস্ক:

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিমের মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

আনিসুলের চিকিৎসক বোন সাথী আক্তার বলেন, “টিভিতে, খবরের কাগজে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শিরোনাম হতে দেখেছি। আজ আমার ভাইও যে আবরারের মতো খবরের শিরোনাম হবে তা কখনও ভাবিনি। কল্পনা করতেও পারিনি।

“আমার ভাইয়ের এমন কী অপরাধ ছিল যে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করতে হবে? আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বুধবার দুপুরে গাজীপুরে আনিসুল করিম শিপনের বাড়িতে তার বাবা, ভাই, বোন ও স্বজনদের সমবেদনা জানাতে এসেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) ও গাজীপুরের সাবেক এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

এই সময় আনিসুলের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের সামনে তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

বরিশাল মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার আনিসুল করিম (৩৫) মানসিক চিকিৎসার জন্য সোমবার আদাবরের ওই হাসপাতালে যান। কিন্তু চিকিৎসার বদলে সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিমি হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয়, এটি প্রকৃতই একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ এই হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ হাসপাতাল চালানোর মতো কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, প্রশিক্ষিত জনবল নেই।”

এই হাসপাতালে শুধু ওয়ার্ড বয় নয় ওই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যা মামলায় দ্রুতত চার্জশিট দেওয়া হবে। তদন্ত দ্রুত গতিতে চলছে।

তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন আরও জানান, ওই ‘হত্যাকাণ্ডের’ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক মো. নিয়াজসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ থাকায় এখন তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে তাকেও রিমান্ড নেওয়া হবে।

গাজীপুরের সাবেক এই এসপির সঙ্গে এই সময় ঢাকা থেকে আসা আনিসুল করিম শিপনের ২০ জনের মতো ব্যাচমেটও ছিলেন। পরে তারা আনিসুলের কবর জেয়ারত করেন।

একই দিন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার শরিফুল ইসলাম, গাজীপুরের এসপি শামসুন্নাহার, এডিশনাল এসপি রাসেল শেখ, আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, স্বজন ও বন্ধুরা সমবেদনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে গাজীপুরের বরুদা এলাকায় আনিসুলের বাড়ি যান।

স্বজনদের আহাজারি

আনিসুল করিমের মৃত্যুতে গত দুইদিন ধরে স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী গাজীপুর মহানগরীর জোড়পুকুরপাড় বরুদা এলাকার বাসায় ভিড় করছেন।

বুধবার সকালে বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী ও ভাই-বোনরা কান্না করছেন। তাদের আহাজরিতে আশপাশের পরিবেশ ভাড়ি হয়ে উঠেছে। তার স্ত্রী বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

আনিসুলের একমাত্র ছেলে চার বছরের সাফরান স্বজনদের জড়িয়ে কান্না করছিল। তার কান্না দেখে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

আনিসুলের বড়ো ভাই রেজাউল করিম জানান, আনিসুল করিম শিপন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। বাবা ফাইজুদ্দিন আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সম্মানিয়া ইউনিয়নের আড়াল গ্রামে তাদের বাড়ি।

তবে তারা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরুদা এলাকায় প্রায় ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করছেন। জেলা শহরের রাণী বিলাস মনি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করেন  আনিসুল। এরপর কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৩তম ব্যাচে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ৩১তম বিসিএস-এ পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন।

রেজাউল আরও জানান, ২০১১ সালে আনিসুল করিম শিপন বিয়ে করেন শারমিন সুলতানাকে। তাদের একমাত্র ছেলে চার বছর বয়সী সাফরান।

 

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap