ডিসেম্বর মাস থেকে ব্যাংক এশিয়ার ভয়েস ব্যাংকিং সেবা চালু হচ্ছে

Share This:

অনলাইন ডেস্ক:

আগামী ডিসেম্বরে ব্যাংক এশিয়া ভয়েস ব্যাংকিং সেবা চালু করতে যাচ্ছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য যারা বিভিন্ন কারণে এতদিন ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছিলেন না, লেনদেন করতে পারছিলেন না এই সুবিধা ব্যাংকিংকে তাদের হাতের নাগালে নিয়ে আসবে।

এই সেবার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, গ্রাহকদের তহবিল আদান প্রদান বা বিল দেওয়ার জন্য কোনো অ্যাপ বা ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে না।
অর্থাৎ, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারাও ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন নিজের ঘরে বসে। তাদেরকে আর কষ্ট করে বাসা থেকে দূরে অবস্থিত ব্যাংকে সশরীরে যেতে হবে না। এ ক্ষেত্রে লেনদেন করার জন্য একটি ফিচার ফোনই যথেষ্ট। ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা না থাকলেও সমস্যা নেই।


বাংলাদেশে এ ধরণের প্রথম সেবা হিসেবে ব্যাংক এশিয়া ১৬ ডিসেম্বর থেকে ভয়েস ব্যাংকিং চালু করতে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবার আওতায় নেই এরকম মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সেবা চালু করছে প্রতিষ্ঠানটি।


ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ব্যাংকটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই সেবা উন্মোচন করা হয়।


ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, ‘এই সেবা বর্তমানে চালু আছে এরকম অন্য যেকোনো আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সেবার চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।’
তিনি আশা করছেন এই সেবা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে, কারণ এখন সর্বস্তরের মানুষ আগের চেয়ে অনেক সহজ উপায়ে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।
২২ নভেম্বর ব্যাংক এশিয়া বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসাবের সঙ্গে একটু চুক্তি সাক্ষর করেছে। এই নতুন ব্যাংকিং প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে হিসাব। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে এ বছরের ২৬ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা পরিচালনা করছে।


শুরুতে এই বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট আছে এরকম সব গ্রাহক ভয়েস ব্যাংকিং ব্যবহার করে ৪ ধরনের সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এই সেবাগুলো হচ্ছে ব্যালেন্স অনুসন্ধান, মিনি স্টেটমেন্ট, পণ্যের তথ্য জানা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের পিন নির্ধারণ করা। 
আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালু হওয়ার ২ থেকে ৩ মাসের পর গ্রাহকরা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে তহবিল স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, মোবাইল ফোন রিচার্জ করাসহ অন্যান্য সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।


ভয়েস ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিচালিত আর্থিক সেবাকে সুরক্ষিত করতে গ্রাহককে তার মোবাইল ফোন থেকে ব্যাংকের শর্ট কোডে ফোন করে নিজ বাচনভঙ্গি ব্যবহার করে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন বা ফিচার ফোন উভয়ই ব্যবহার করা যাবে। 
এই কনভারসেশনাল (কথোপকথন সংক্রান্ত) ইঞ্জিনটি গ্রাহকের আর্থিক লেনদেনের চাহিদা তাৎক্ষণিক ভাবে পূরণ করবে। এই প্ল্যাটফর্মে প্রথমে গ্রাহকের কণ্ঠস্বর সংরক্ষণ করা হবে। এর পর প্রতিবার লেনদেনের সময় সংরক্ষিত কণ্ঠস্বরের সঙ্গে কলদাতার কণ্ঠ মিলিয়ে দেখবে সিস্টেম। 
এই প্রক্রিয়াটি ফোনের বহুল পরিচিত ফেস (মুখচ্ছবি) বা থাম্ব (বৃদ্ধাঙ্গুলি) রিকগনিশন প্রক্রিয়ার মতো। এই সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে কোনো অযাচিত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টের মালিকের কণ্ঠস্বর নকল করে তহবিল তছরুপ করতে পারবেন না। 
আরফান আলী বলেন, ‘মানুষ যাতে নতুন সেবাটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, সেজন্য আমরা মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি অনুরোধ জানাবো কল রেট কমিয়ে আনতে।’
কলের চার্জ কমালে সেটি উভয় পক্ষের জন্য উপকারি হবে, কারণ সেক্ষেত্রে প্রচুর মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভয়েস ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করতে আগ্রহী হবে।
গ্রাহকদের এই সেবা ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করার জন্য ব্যাংক এশিয়া ফোন কলের ওপর ভর্তুকি দেওয়ারও পরিকল্পনা করছে।
হিসাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অপারেটিং অফিসার ফায়াদান হোসেন জানান, এই কনভারসেশনাল ইঞ্জিনটি বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করবে।
তিনি জানান, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের বাচনভঙ্গি চিনে নেবে এবং তাদের মুখের কথার বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাজ করবে। তিনি যোগ করেন, ভয়েস ব্যাংকিং সেবার ব্যবহার ইন্টারনেট ব্যাংকিংকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে সব ধরনের গ্রাহক উপকৃত হতে পারবেন। 
তিনি আরও জানান, ভয়েস ব্যাংকিং সেবা বিশেষ করে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের সহায়তা করবে, যারা দূর দূরান্তে থাকেন।
ব্যাংক এশিয়া দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। তাদের রয়েছে ৬০ লাখ অ্যাকাউন্ট, যার ৭৫ শতাংশই এজেন্টদের মাধ্যমে খোলা হয়েছে।
আরফান আলী বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই নতুন প্রক্রিয়ার ফলে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।’

Loading...