ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা বাড়াতে পারে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’

নিউজ ডেস্ক:

সময় যত পালটাচ্ছে, নতুন নতুন টেকনোলজি আসছে, বিভিন্ন জিনিসের আপডেটেড ভার্সন বের হচ্ছে, মানুষের স্বাস্থ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে। এই সব কিছুর দৌলতে মানুষের জীবনে ব্যস্ততাও বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে লাইফস্টাইলে। আর এই লাইফস্টাইলই জীবনে একাধিক রোগ ডেকে আনার ভূমিকা পালন করতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম সমস্যা। নতুন সমীক্ষা বলছে, এই ডায়াবেটিস বাড়িয়ে তোলার পিছনে আবার মেটাবলিক সিনড্রোম (Metabolic syndrome)-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই মেটাবলিক সিনড্রোম-ও লাইফস্টাইল জনিত একটি সমস্যা।

সমীক্ষা বলছে, শুধু ডায়াবেটিস বাড়িয়ে তোলার প্রবণতাই নয়, মেটাবলিক সিনড্রোম বাড়িয়ে তুলতে পারে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ-ও। সাধারণত, হাইপারটেনশন, ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল ও ওবেসিটি এর উপসর্গ। দ্য ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের কথায়, এই তিনটি উপসর্গ থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

জার্নাল অফ কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ রিসার্চে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, মেটাবলিক সিনড্রোম লাইফস্টাইল কন্ডিশন যা যে কোনও মুহূর্তে বেড়ে যেতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছেও বিশ্বের সর্বত্র।

জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ারে প্রকাশিত আরেকটি সমীক্ষা বলছে, ১১ থেকে ৪১ শতাংশ জনসংখ্যার মধ্যে এই মেটাবলিক সিনড্রোম রোগটি পাওয়া যেতে পারে। যার মধ্যে মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সব চেয়ে বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়সের উর্ধ্বে ৮০ শতাংশ মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কী করে বোঝা যাবে মেটাবলিক সিনড্রোম-এর সমস্যা?

মেটাবলিক সিনড্রোম-এর কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে। কিছু উপসর্গ অবশ্যই থাকবে। এ ক্ষেত্রে-

১. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অত্যধিক বেশি থাকলে, জন্মানোর সময় থেকেই ডায়াবেটিস থাকলে বা পরিবারে কারও ডায়াবেটিস থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হতে পারে।

২. উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হতে পারে।

৩. উচ্চ ট্রাইগ্লাইসেরাইডিস (High level of triglycerides) থাকলে অথবা হাইপার ট্রাইগ্লাইসেরিডিমিয়া (Hypertriglyceridemia) নামের এক ধরনের ফ্যাট থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হতে পারে।

৪. রক্তে Good Cholesterol (HDL) কম থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হতে পারে।

৫. হাইপোথাইরয়ডিসম (Hypothyroidism), পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা ননঅ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার-এর সমস্যা থাকলে মেটাবলিক সিনড্রোম হতে পারে।

কারও যদি এগুলোর মধ্যে কোনও দু’টি বা তিনটি সমস্যাও থাকে, তা হলে তার মেটাবলিক সিনড্রোম-এর সমস্যা রয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

কীভাবে মেটাবলিক সিনড্রোম প্রতিরোধ সম্ভব?

মেটাবলিক সিনড্রোম-এর ফলে একাধিক রোগ বাসা বাধতে পারে শরীরে। তাই একে শুরুতেই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লাইসেরাইডিস নিয়মিত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

খাবারে পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফাইবারযুক্ত খাবার ডায়েটে রাখা যেতে পারে। বেশি করে সবজি, সবুজ শাক, চিকেন, মাছ খাওয়া যেতে পারে। ভাজা খাবার, প্রসেসড ফুড, খুব বেশি মিষ্টি না খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি খুব বেশি নুন খাওয়া থেকেও বিরত থাকলে ভালো।

খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চাও এ ক্ষেত্রে কাজে দেয়। বাড়তি ওজন কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখে। ফলে এই সমস্যা হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা বলছে, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষজনের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যায়াম, যোগ বা ওয়ার্কআউটে দেওয়া উচিৎ। কারণ শরীরচর্চা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে, মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয় ও অন্যান্য একাধিক সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap