ডাক্তার সেজে অপারেশন করলো প্রহরী, রোগীর মৃত্যু

Share This:

Bangla Times News Desk:

পাকিস্তানের এক সরকারি হাসপাতাল। সেখানে ক্ষত নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন শামীমা বেগম (৮০) নামে এক রোগী। তার সহায়তায় ডাক্তার হিসেবে এগিয়ে এলেন একজন। তিনি অপারেশন করলেনkp। এর দু’সপ্তাহ পরে মারা গেলেন শামীমা বেগম। কিন্তু তাকে যিনি চিকিৎসক হিসেবে অপারেশন করেছেন তিনি কোনো ডাক্তার নন, তিনি একজন সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় চলছে পাকিস্তানে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এতে বলা হয়েছে, লাহোরের মায়ো হাসপাতালের সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী মুহাম্মদ ওয়াহিদ ভাট। তিনিই ওই হাসপাতালে দু’সপ্তাহ আগে নিজে ডাক্তার সেজে অপারেশন করেন শামীমা বেগমের। রোগী মারা যাওয়ার পর তদন্তে বেরিয়ে আসে ডাক্তারের পরিচয়। এ নিয়ে মায়ো হাসপাতালের প্রশাসনিক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হাসপাতালের প্রতিজন ডাক্তারের ওপর আমাদের নজর রাখা সম্ভব হয় না। তারা কি করছেন সব সময় আমরা সেটা জানতেও পারি না। কারণ, এটা একটা বিশাল হাসপাতাল। অপারেশন থিয়েটারে কিভাবে কোন মাত্রার অপারেশন করেছেন মুহাম্মদ ওয়াহিদ ভাট তা পরিষ্কার নয়। তা ছাড়া অপারেশন থিয়েটারে ওই সময় দক্ষতাসম্পন্ন একজন টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানে সরকারি হাসপাতাল হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয় রোগীকেই। অনেক সময় সেখানে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় এক বিশৃংখল পরিস্থিতি। এখানে অপারেশনের জন্য ওয়াহিদ ভাটকে অর্থ পরিশোধ করেছে শামীমা বেগমের পরিবার। অপারেশনের আগে তিনি ওই রোগীর ক্ষতে ড্রেসিং করতে দু’বার গিয়েছিলেন তাদের বাড়ি। যখন ক্ষত থেকে রক্তপাত হচ্ছিল এবং শামীমা বেগমের অবস্থা শোচনীয় অবস্থায় চলে যায়, তখন তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময়ই ঘটনা ফাঁস হয় যে, আসলে অপারেশনের নামে কি হয়েছে। নিহতের শরীরের ময়না তদন্ত হয়। তা থেকে যাচাই করে দেখা হয় তিনি অপারেশনের কোনো ভুলে মারা গেছেন কিনা।

লাহোর পুলিশের মুখপাত্র আলি সফদার বলেছেন, অভিযুক্ত প্রহরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এখন তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি নিজে একজন ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। মায়ো হাসপাতালের একজন স্টাফ বলেছেন, ওয়াহিদ ভাটকে রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নেয়ার অভিযোগে দু’বছর আগে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে মে মাসের শুরুতে এক ব্যক্তি নিজে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন লাহোর জেনারেল হাসপাতালে। তার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Loading...