‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমা থেকে পাওয়া ৭টি অনুপ্রেরণা!

ডি সাইফ,

মনে হয় ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমা থেকে শিক্ষণীয় অনেকগুলো বিষয় আছে, যে বিষয়গুলো সবার জীবনের সাথেই যায়। জীবন সত্যিই দুইবার আসে না। কিন্তু জীবনের মতো জীবনকে যাপন করতে পারলে একটা জীবনেই বাঁচার মতো বাঁচা যায়। এই সিনেমা থেকে আমি যে ৭ টি অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষা পেয়েছি, সেসব শেয়ার করার চেষ্টা করি। যারা সিনেমা দেখেছেন, তারা স্মরণ করুন আরেকবার। যারা দেখেননি, তারা চাইলে দেখতে পারেন অসাধারণ এই গল্প, যে গল্পে বেঁচে থাকার সুর আছে।

১। এই সিনেমাটা একটা পিওর বন্ধুত্বের গল্প, জীবনের গল্প। এক একটা মানুষ একেক রকম। পেশা আলাদা, চিন্তা আলাদা, চয়েজ আলাদা। কিন্তু, বন্ধুত্ব ঠিক থাকলে আলাদা চিন্তার মানুষ হয়েও জীবনকে রাঙ্গানো যায়। একে অন্যকে বোঝা যায়। অথচ, জীবনের বাস্তবতায় আমরা ভুলে যাই, আজকের দিনটাকেই। আমাদের সব চিন্তা ঘিরে থাকে আগামী দিন নিয়ে। অথচ, আগামী দিন কি আসবে- তার গ্যারান্টিই নেই। এই সিনেমা বলে, জীবন দুইবার আসবে না। তাই এই জীবনটা পুরোপুরি উপভোগ করো। বন্ধুদের সাথে কিছু সেরা সময় কাটাও। পরিবারের উপর অভিমান হলে সেটা ঝেড়ে ফেল৷ অস্বস্তি নিয়ে বেঁচো না। কিছুদিন কাটুক পাগলামিতে। কিছুদিন ফোনের বাইরের জগতে কী আছে দেখো। সময় যতটুকু আছে, বাঁচো। কারণ, জীবন দুইবার আসে না।

২। সবারই জীবনে ভয় আছে। ফারহানের যেমন উচ্চতাভীতি, ঋত্বিকের যেমন প্রবল পানি ভীতি দেখানো হয়েছে সিনেমায়। এই ভয়টার ওপাশে যে মুক্তি আছে, ভয়কে ফেস না করলে হয়ত সেটা তারা কখনো জানতই না। ঋত্বিক যখন সমুদ্রের নিচের অদ্ভুত সৌন্দর্য দেখে নৌকায় উঠলো, তার এক্সপ্রেশনে বোঝা যাচ্ছিলো এতদিনের ভয়টা তাকে কী দারুণ অভিজ্ঞতা থেকে দূরে রেখেছিল। ফারহানের ক্ষেত্রেও একই। আকাশ থেকে যখন স্কাই ডাইভ দিলো অনেক ভয়ে কাঁপার পরেও, শেষটা কি দারুণ হলো তার! এই ভয়গুলো আমাদেরকে আমাদের সেরা ভার্সন হতে দেয় না। তাই ভয়কে ভয় না পেয়ে ফেস করা উচিত এই বিষয়টি খুব অসাধারণভাবে দেখানো হয়েছে সিনেমায়।

৩। আফসোস নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে আছে? এই সিনেমায় আমার দেখা অন্যতম সেরা একটি দৃশ্যে এই শিক্ষাটা দেওয়া হয়েছে। কোনো সিনেমায় চুমুর দৃশ্য এতটা ভাল লাগেনি যতটা এই সিনেমায় এই দৃশ্যে লেগেছে। ক্যাটরিনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন ঋত্বিকরা তাদের রোড ট্রিপে আবার নেমে পড়েছিল, ক্যাটরিনা তখন একটা বাইকে চড়ে আবার ফিরে এসেছিল। এসেই চুমু খায় ঋত্বিককে।

কারণ, ট্যুরের একটা পার্টে একসাথে সময় কাটিয়ে তাদের যে সুপ্ত ভাললাগা তৈরি হয়ে হয়েছে ক্যাটরিনার মনে হলো এই ভাললাগার কথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ, সিনেমায় দেখানো হয় ক্যাটরিনা এমন তরুণী যে কখনো আফসোস নিয়ে বাঁচে না। ঠিক তাই। চুমু দিয়ে সে ডায়ালগ দিয়েছিল, ‘আই হেট রিগ্রেটস’। সবারই আফসোসকে ঘৃণা করা উচিত, নিজেকে নয়।

৪। এই সিনেমায় আড্ডার মাঝে, ভ্রমণের মাঝে ফোনের ব্যবহারের বাহুল্যতা দেখানো হয়েছে। একটুখানি সময় আমরা একসাথে থাকার সুযোগ পাই। ওইটুকু সময়ও যদি ফোনেই ব্যস্ত হয়ে যাই, তাহলে ট্যুরের মানে কী থাকলো, আড্ডা কই দেয়া হলো আর! এই সময় এসে স্মার্টফোনের কারণে তো মানুষ পাশাপাশি বসে থাকলেও কতদূরে যে থাকে নিজেরাও জানে না। এই শিক্ষাটা দেওয়া হয়েছে সিনেমায়।

সবসময় ফোন দিয়ে ব্যতিব্যস্ত না থেকে মানুষকে সময় দেয়া উচিত। ট্যুরে গিয়ে ঋত্বিক তার ফোন কলে ব্যস্ত হয়ে থাকলে ফারহান সেই ফোন ছুঁড়ে ফেলে গাড়ির জানালা দিয়ে। ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করে ঋত্বিক তার ব্যক্তিগত জীবনেও বেশি সময় দিতে পারে না। কিন্তু, একসময় সে বোঝে এই ব্যস্ততা, এই ফোনকল এর বাইরেও জীবন আছে। আমরাও হয়ত বুঝব, কিন্তু খুব না দেরি হয়ে যায়, কে জানে!

৫। মনের মধ্যে পুষে রাখা ক্ষোভ, অভিমান ঝেড়ে ফেলার চেয়ে শান্তির কিছু হয় না। ভুলে যাওয়া, মাফ করে দেওয়া নতুন করে জীবন গোছাতে সাহায্য করে। সিনেমায় ফারহান তার মাকে ক্ষমা করে দেয়, ঋত্বিক ক্ষমা করে ফারহানকে যে তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক করেছিল একসময়।

যখন কাউকে মাফ করে দিতে পারব, যখন ভুলের জন্য মন থেকে ক্ষমা চাইতে পারব, তখন সম্পর্কগুলো আরো সুন্দর হয়ে যায় এমনিতে। জীবন এত ছোট, ক্ষোভ অভিমান নিয়ে এটাকে ভর্তি না করে ভালবাসায় কেন ভর্তি করি না আমরা?

৬। সম্পর্কে বেশি পজেসিভ হওয়া ঠিক নয়। সবার একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। সেখানে হস্তক্ষেপ না করেও মিলমিশ করে থাকা যায়। ক্যাটরিনা, ঋত্বিক দুইধরণের মেন্টালিটির হলেও তারা একে অপরকে বুঝতে শিখেছিল। ফলে, ঋত্বিক ক্যাটরিনাকে যেমন বাঁধা দেয়নি মরক্কো যাওয়ার পথে, তেমনি ক্যাটরিনাও ঋত্বিককে শিখিয়েছে সম্পর্কের মূল্যবোধ।

আবার অভয় দেওল ভুল করে একটা সম্পর্কে জড়িয়ে সেটাকে মেনে নিতে চেয়েছিল। তার হবু স্ত্রীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হওয়াকে ভিতরে ভিতরে না মানতে পারলেও সমাজের খাতিরে চুপ করে থাকছিলো। কিন্তু, সে ভুল বুঝতে পেরেছে একসময়। সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ জরুরি, বিশ্বাস জরুরি। জোর করে সিসিক্যামেরা হতে হয় না সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখবার জন্যে।

৭। আমরা সময় থাকতে অন্যের চোখে ভাল সাজতে গিয়ে নিজেদের কোমলতা হারিয়ে ফেলি। বেশি ফর্মাল লাইফ লিড করতে গিয়ে নিজের স্বত্তাকে হারিয়ে ফেলি। অথচ, আমরা স্কুল জীবনে কী দুরন্ত সময় কাটাতাম! কে কী ভাবত, সেটা নিয়ে চিন্তা না করে জীবনকে উপভোগ করতাম। সিনেমায় ঋত্বিক খুব সিরিয়াস ভাব ধরেছিলো শুরুতে, বন্ধুরা মজা করলে সে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাইত, এখন বড় হয়ে গেছ, এখন বাচ্চামো মানায় না। কিন্তু, ছোট ছোট মজার স্মৃতিই দিনশেষে বলার মতো গল্প হয়ে থাকে। কে কী ভাবলো, সেটা না ভেবে নিজের মতো থাকতে পারাটা জরুরি। আমরা কজন এভাবে থাকতে পারি?

-Egiye Cholo

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap