চার বছর বয়সী বোনকে হত্যার অভিযোগে ১৪ বছরের ভাই গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার কড়াইল বস্তিতে চার বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে তার ১৪ বছরের ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব বলছে, ছোট বোনের জন্মের পর তার জন্য বাবা-মায়ের ভালোবাসা ‘কমে গিয়েছিল’ বলে তার মনে হয়েছে। সে কারণেই ঘুমন্ত বোনটিকে সে ‘গলা টিপে হত্যা’ করেছে।

বুধবার সকালে কড়াইল বস্তিতে ওই হত্যাকাণ্ডের পর রাতে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাবের উত্তরা ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, বনানী থানাধীন জামাই বাজার এলাকার কড়াইল বস্তিতে ওই শিশু দুটির পরিবার থাকে। তাদের বাবা ফুটপাতে আমড়া, পেয়ারা বিক্রি করেন। আর মা বাসায় বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করেন।

যে কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ে। বুধবার সকালে তাকে ঘরে রেখে মা কাজে চলে যান। ঘুমন্ত ছোট বোনকে দেখে রাখতে বলে বাবাও বাইরে যান।

কামরুজ্জামান বলেন, “মিনিট পনের পর ফিরে এসে বাবা দেখেন, মেয়ে তার ঘরে নেই। ছেলেও কথা বলছে না। মেয়েকে না পেয়ে তিনি স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করান। পরে বেলা ১০টার দিকে বাসার একটু দূরে গোসলখানায় শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।”

শিশুটির লাশ পাওয়ার পর তার বাবা-মা কান্নাকাটি করলেও ভাইয়ের মধ্যে তেমন কোনো ‘ভাবান্তর ছিল না’ জানিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, “সে কারণে তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন সে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে।

“ছেলেটা বলেছে, বোন হওয়ার পর থেকে তার প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা কমতে থাকে। তার প্রতি তারা উদাসীন হয়ে যান, সব ভালোবাসা মেয়ের দিকেই চলে যায় বলে তার মনে হচ্ছিল।”

তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাবার ‘পিটুনি’ খেতে হত বলে তা নিয়েও ক্ষোভ ছিল ওই কিশোরের। বাবা-মা বাইরে থেকে এলে আগে ছোট সন্তানকে আদর করতেন, যা মানতে পারছিল না ছেলেটি।

কামরুজ্জামান বলেন, “এসব করণে সে সুযোগ বুঝে ঘুমন্ত অবস্থায় বোনকে গলা টিপে হত্যা করে প্রথমে খাটের নিচে রেখে দেয়। পরে সবাই যখন তাকে খুঁজতে ব্যস্ত, তখন সে লাশ নিয়ে গোসলখানায় রেখে আসে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

“তার ধারণা, ছোট বোন না থাকলে বাবা-মায়ের ভালবাসা সে একাই পাবে। এই ধারণা থেকে সে বোনকে মেরে ফেলার সুযোগ খুঁজছিল বলে স্বীকার করেছে।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Share via
Copy link
Powered by Social Snap