কবি রশিদ হারুনের কবিতা “অভিমানের সাতকাহন”

অভিমানের সাতকাহন

রশিদ হারুন
——————————

মাথার ঠিক উপরে যখন সূর্য থাকে
সেইসময়ই আমরা হাঁটা শুরু করি পাশাপাশি ।

সেইসময়টাতে আমাদের ছায়া মাটিতে পড়েনা,
তখন শরীরের ভিতরেরই থাকে দুজনের ছায়া।

‌অভিমানে আমরা পরস্পরের সাথে কথা বলিনা,
‌অভিমানে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে দেখিনা,
‌অভিমানে সেই সময় পরস্পরকে স্পর্শ করি না।

কিছু সময় পরেই দুজনেরই ছায়া শরীর থেকে বের হয় ধীরে ধীরে,
তারপর এক অসভ্য অভিমানে
সেই ছায়া দীর্ঘ হতে হতে সূর্য ডোবার পর মিলিয়ে যায় হঠাৎ করেই ।

তবুও আমরা কথা বলিনা,
আমরা পরস্পরের দিকে একবারও তাকিয়ে দেখিনা,
আমরা পরস্পর স্পর্শহীন থেকে যাই দীর্ঘ সারারাত এক বোকা অহং-এ।

প্রিয়তমা,
অভিমান আর অহং-এর এই গ্যাঁড়াকলে,
-এভাবেই প্রতিদিন আমরা দুজনের ছায়া টানতে টানতে এক সময় হারিয়ে ফেলি রাতের অন্ধকারে।

এভাবে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই,
হায়রে বেঁচে থাকা!
-ভালোবাসাহীন এই বেঁচে থাকা বড়ই দহনের।

মৃত রাতগুলো দুজনের বুকের ভিতরে
ঠকঠক করে একদিন ঠিকই জানান দিবে,
-এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমরা দুজনেই পুড়ে যাবো ভিতরে বাহিরে,
সেদিন শুধু আমাদের ছায়াই পড়ে থাকবে মাটিতে।
————————————

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap