এরদোগান বললেন ফরাসি প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন

বিবিসির প্রতিবেদন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে কার্যত মানসিক রোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তিনি বলেন, ম্যাক্রনের মানসিক পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। এমন অবমাননাকর উক্তিতে প্রচ- ক্ষেপেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। জবাবে তিনি পরামর্শ করতে তুরস্কে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূততে দেশে তলব করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, কয়েকদিন আগে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)এর ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করে ক্লাসে শিক্ষাদান করা ইতিহাসের একজন শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির শিরñেদ করে এক চেচেন যুবক। এ ঘটনায় উগ্র ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি বলেছেন, ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র ত্যাগ করবে না।

এর জবাবে এরদোগান তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর চিত্রাঙ্কন ইসলামে একটি গুরুত্বর অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য। কারণ, ইসলামিক রীতিতে মহানবী (স.) ও আল্লাহর কোনো ছবি আঁকাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সে জাতীয় পরিচয়ের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা। কর্তৃপক্ষ বলছে, এক্ষেত্রে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে রক্ষা করতে গিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করলে তাতে দেশের একতা বা ঐক্য নষ্ট হবে। ইমানুয়েল ম্যাক্রন এমন মূল্যওবোধকে সমুন্নত রাখার পক্ষে কথা বলেছেন। তার এমন বক্তব্যের জবাবে শনিবার বক্তব্য রেখেছেন এরদোগান। তিনি বলেছেন, ইমানুয়েল ম্যাক্রনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা বোঝেন না এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে আর কি বলা যেতে পারে। ভিন্ন বিশ্বাসের সদস্য এমন কয়েক লাখ মানুষ তার দেশে বসবাস করেন। তাদের বিষয়ে তিনি এমন আচরণ করেন। ইসলাম এবং মুসলিমদের নিয়ে ম্যাক্রন নামের ব্যক্তির সমস্যাটা কি?
এরদোগানের এমন মন্তব্যের জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্সিয়াল এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তুরস্কে নিয়োজিত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে তাকে সাক্ষাত করতে বলা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেছেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য। অতি কর্কশ ও অতি নিষ্ঠুরতা কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। এরদোগানকে আমরা অনুরোধ করবো তার নীতির পরিবর্তন করতে। কারণ, যেকোনো দিক থেকে তার এমন আচরণ বিপজ্জনক।
উল্লেখ্য, এরদোগান একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তিনি বার বার তুরস্কে ইসলামকে রাষ্ট্রের মূল রাজনীতিতে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তার এ চেষ্টা অব্যাহত আছে ২০০২ সালে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে। তবে সর্বশেষ তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap