“এডুকেশন কন্সালটেন্সি ব্যবসায়িক পরিচিতি আমার গর্ব”

Share This:

মাহমুদুল হাসান (সি ই ও, অজিহা কন্সাল্টেন্সী)

হেডলাইন দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন বা হবেন যে কি ব্যবসায়িক পরিচিতি যার জন্য এমন গর্ব করতে হবে? হ্যা, আমি গর্বিত। আমি গর্ব করতেই পারি এ ব্যবসায়িক পরিচিতি নিয়ে৷ কারন এ ব্যবস্যা আর দশটি ব্যবসার মত শুধুমাত্র লাভ-লসের হিসেবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না৷। এখানে একজন মানুষের ভবিষ্যতের ভীতও গড়ে দেয়৷ যার মাধ্যমে অজপাড়া গায়ের ছেলেমেয়েরাও দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও প্রমান করতে পারছে নিজের মেধা ভিত্তিক যোগ্যতা৷ ফলে দিন শেষে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যুক্ত হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিতে৷ স্থায়ীভাবে সচ্ছল হবার সুযোগ পাচ্ছে প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা ৷

সেই ব্যবসাটি হচ্ছে ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলাপমেন্ট কন্সালটেন্সি৷ অনেকেই সামাজিকভাবে স্বীকার করেনা এটিকে পেশা হিসেবে, অথচ পরিবারের কোন সদস্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ইচ্ছে পোষণ করলে ছুটে আসেন সেই কন্সালটেন্সী ব্যবসায়ীদের কাছে ৷ একজন ছাত্র/ ছাত্রীর মেধা অনুযায়ী কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে ? খরচ নিয়ন্ত্রন সীমার মধ্যে থাকবে কিনা? পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ কেমন? লেখাপড়া শেষ করে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ আছে কিন? এরকম নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আর এসব প্রশ্নের উত্তর সাজিয়ে প্রস্তুত থাকেন একজন কন্সালটেন্ট। যাকে প্রতিনিয়ত তথ্য ভান্ডার আপডেট রাখতে হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৷ অত্যন্ত সচেতন থাকতে হয় বিদেশগামী ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে ।

ইউনেস্কোর হিসেব মতে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৫/৭০ হাজার ছাত্র ছাত্রীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছে৷ যার বেশিরভাগ যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসায়ীক সংগঠন ফ্যাডক্যাবের সদস্যভুক্ত কন্সালটেন্টদের মাধ্যমে ৷ এসব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষে ভালো ভালো চাকুরী করছে। কেউ কেউ স্থায়ী বাসিন্দা হচ্ছে। অর্থাত সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনিতিতে অবদান রেখে চলেছে বছরের পর বছর ৷ শ্রমিক ভিসায় যারা যাচ্ছেন তাদের কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া থাকে। কিন্তু একজন ছাত্র /ছাত্রী পড়াশোনা শেষে আজীবন থেকে যেতে পারেন, কাজ করতে পারেন সর্বপোরি পরিবারের অস্বচ্ছলতাকে টেনে তুলতে পারেন নিজের ইচ্ছে মত ৷

পক্ষান্তরে, যাদের মাধ্যমে এই ছাত্র/ছাত্রীরা ভবিষ্যতের আলোর মুখ দেখলো তারা তাদের প্রাপ্য সম্মানতো পাচ্ছেইনা বরং থেকে যাচ্ছে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ৷ এখন প্রত্যন্ত গ্রামের একজন মেয়ে তার সক্ষমতা অনুযায়ী চাইলেই ইউরোপ আমেরিকা কানাডার মত ফাস্ট ওয়ার্ল্ড  দেশগুলোতে পড়াশোনা করতে পারে৷ এজন্য একজন কন্সালটেন্সী ব্যবসায়ীর অবদান অনস্বীকার্য৷ একজন কন্সাল্টেন্ট সার্বক্ষনিক চেস্টা করেন কত সহজভাবে সেবা দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করার৷ কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় ছাত্র /ছাত্রীদের এডমিশন ও ভিসা হাতে পাবার শেষে সার্ভিস চার্জ দিতে কত অনীহা প্রকাশ ৷

সামাজিকভাবে এখনো শুনতে হয় নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কথা ৷ আর বিয়ের কথা বাদই দিলাম৷ মেয়ে দেখতে গেলে আমাদের বহন করতে হয় অন্য ব্যবসায়িক পরিচয় ৷ মাঝে মাঝেই ভাবি একবিংশ শতাব্দীতে এসে এখনো আমরা কত পিছিয়ে অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামি দামি কোম্পানিগুলি জোরালোভাবে এই এডুকেশন কাউন্সিলিং ব্যবসায় নেমে পড়ছে বাংলাদেশ ৷

নানাবিধ ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য এসব কোম্পানিগুলি সহজেই ব্যবসায়িক বিস্তার করছে৷ এভাবেই বিদেশি কোম্পানিগুলি তাদের অর্জিত অর্থ নিয়ে যাচ্ছে নিজ দেশে ৷ তাতে আমার দেশ কিন্তু সেই অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৷ এরকম চলতে থাকলে তরুন মেধাবী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এই সম্ভাবনাময়ী খাতে আসতে চাইবেনা ৷ তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে আমার দেশ ও দেশের ছাত্র/ ছাত্রীরা ৷

তাই সরকারের কাছে জোড় দাবি থাকবে সম্ভাবনাময়ী এই খাতকে ও এই খাতের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করুন৷ তাতে দেশের অর্থনীতির চাকা আরো বেশি সচল হবে, দেশ এগিয়ে যাবে, এগিয়ে যাবে দেশের মানুষ ৷
আমার লেখা পড়ে অনেকেই নেগেটিভ অভিজ্ঞতার কমেন্ট করবেন তাদের উদ্দেশ্য বলি ভালো মন্দ সব সেক্টরেই আছে, তাই বলে কোন পেশাকে অসম্মান করা ঠিকনা ৷

এই ব্যবসায়ের সাথে এখন যে বা যারাই জড়িত হছেন তাদেরকে যথাযথ ভাবে কঠোর গাইড লাইন দিচ্ছেন ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলাপমেন্ট কন্সাল্টেন্সী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (Facdcab(৷ ফ্যাডক্যাব চেস্টা করছে এই পেশার মানুষদের যথাযথ সম্মান ফিরিয়ে দেবার তেমনি ভাবে এই ক্ষাতের সেবা গ্রহিতাদের ন্যায্য দাবী নিশ্চিত করতে ৷

পরিশেষে বলতে চাই আপনার কন্সাল্টেসী ব্যবসায়িক পরিচয়ে আমি সত্যিই গর্বিত ৷

Loading...