এক সময়ের কোটিপতির করুণ মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

নুরুল বাশার সুজন:

মোহাম্মদ আবু জাফর,চট্টগ্রামের আলকরন এলাকায় পৈত্রিক নিবাস। ভালোবেসে বিয়ে করেন নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার মেয়ে রোজী আক্তারকে। পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারনে তার স্ত্রীকে মা-বাবা মেনে নেয় নি। বলতে গেলে ভালোবেসে বিয়ে করার কারনে নিজ পরিবার- পরিজন ও আত্নীয় – স্বজন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আবু জাফর। নিউ মার্কেটে একটি পরিচিত দোকানে চাকুরী করে কোন রকম দুঃখ কষ্টে সংসার চালাতেন।

একসময় ভাগ্যর অন্বেষায় রিজিকের সন্ধানে আবু জাফর পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। প্রথমাবস্থায় চাকুরী ও পরবর্তীতে ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় স্ত্রী’র নামে জায়গা ক্রয় করে বাড়ী নির্মাণ করেন। প্রবাসজীবনে কষ্টার্জিত সমস্ত অর্থ ও সম্পদ সব স্ত্রী’র ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখতেন।।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে আসেন আবু জাফর। নিজস্ব বাড়ী ও ভাড়াঘর এবং ব্যবসা বানিজ্য সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক আবু জাফর। নিজ স্ত্রী, দুই ছেলে যথাক্রমে ফাহিম ও নাইম এবং একমাত্র কন্যা প্রিয়াংকাকে নিয়েই কাজীর দেউড়ির ২নং গলির ১৬১৬ নং বাড়ীতে সুখের নীঢ় গড়ে তোলেন আবু জাফর।।

এ সুখ খুব বেশীদিন স্থায়ী হয়নি আবু জাফরের জীবনে। সংসার জীবনে নেমে আসে এক ঘুর বিভীষিকাময় অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়। স্ত্রী’র সাথে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া- ঝাটি লেগেই থাকত। ১০/১২ বছর আগে পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী যৌতুকের দাবীতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে আবু জাফরের বিরুদ্ধে। যাকে ভালোবাসার কারনে নিজের বাবা- মা, ভাই- বোন পরিত্যাগ করেছে এবং নিজের উপার্জিত সব অর্থ যার একাউন্টে জমা করা হয়েছে। যার নামে জায়গা ও বাড়ী করা হয়েছে, সে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন করায় আবু জাফর মনে ভীষন আঘাত পান। স্ত্রী’র এধরনের আচরন সহ্য করতে না পেরে নিরবে আদালতের রায় মেনে নিয়ে জেলেই চলে যান হতভাগা আবু জাফর।

বছর ছয়েক আগে জেল থেকে বের হয়ে কাজীর দেউড়ির বাড়ীতে গিয়ে দেখে স্ত্রী’র নামে কেনা কোটি টাকা দামের জায়গা ও বাড়ী সব বিক্রি করে দিয়ে সন্তানাদি নিয়ে স্ত্রী অন্যত্র চলে গেছে। ক্ষোভে, দূঃখে, অপমানে স্ত্রী ও সন্তানের কাছে আর ফিরে যায়নি। বেচে নেন ভবঘুরে জীবন। ফকির বেশে মাজারে মাজারে ঘুরে চলতে থাকে আবু জাফরের জীবন।।

গত ০৯ নভেম্বর’২০ সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘির পূর্ব পাড়ে হজরত শাহ আমানত শাহ (রা:) মাজারের সামনের রাস্তার পাশেই ক্ষুদার্ত, অসুস্থ, অচেতন ও সাড়াশব্দহীন অবস্থায় মোহাম্মদ আবু জাফরকে পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বাবুল পাল আবু জাফরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষনা করেন।।

পরবর্তীতে মৃতদেহের পকেটে পাওয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি)’র সূত্র ধরেই আবু জাফরের ঠিকানা ও বৃত্তান্ত পাওয়া যায়।।

এ সমাজে শুধু নারী নির্যাতনই হয় না, কিছু কিছু পুরুষও নির্যাতিত হয়। যা অনেকটা খালি চোখে দেখা যায় না।।

মহান আল্লাহ, ভালোবাসার কাঙ্গাল মরহুম মোহাম্মদ আবু জাফরের জীবনের সমস্ত গুনাহ সমুহ মাফ করে দিয়ে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।।

আমিন।। সুম্মা আমিন।।

*জনাব নুরুল বাশার সুজনের (Nurul Bashar Sujan) ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

Loading...
Share via
Copy link
Powered by Social Snap