আলসামিতে অভ্যস্ত? বাড়তে পারে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা! বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক:

গোটা দিন শুয়ে বসে বা টিভি দেখে কাটাচ্ছেন? তবে এখনই সাবধান হয়ে যান। একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যাঁরা অলসভাবে জীবনযাপন করছেন তাঁদের মধ্যে গুরুতর করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এমনকি এমন করোনা রোগীদের মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অতিমারির দু’বছর আগে যারা অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত, তাদের করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এমন অলস জীপনযাপনকারী করোনা রোগীদেরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট রেখে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। পরিবর্তে যাঁরা নিয়মিত শারীরিক গতিবিধি ও কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন তাঁদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।

ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিনে এই সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলেন, ‘লক্ষ্য করা গিয়েছে, ধারাবাহিক ভাবে অলস জীবনযাপন গুরুতর করোনা সংক্রমণের জন্য শক্তিশালী রিস্ক ফ্যাক্টার হিসেবে কাজ করছে। বয়স ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পূর্ব ইতিহাস ছাড়া দ্য সেন্টারস ফর ডিসিস কন্ট্রোল দ্বারা চিহ্নিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা বা রিস্ক ফ্যাক্টারগুলির তুলনায় এ ধরণের জীবনযাপন অধিক গুরুতর। এমন কি ধূমপান, ওবেসিটি, ডায়েবিটিস, হাইপারটেনশন, কার্ডিওভাসকিউলার ডিসিস এবং ক্যানসারের মতো সর্বাধিক উল্লিখিত রিস্ক ফ্যাক্টারগুলির তুলনায় অলস জীবনযাপন করেনা আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী।’ গবেষকরা জানান, বয়স, পুরুষ সেক্স ও ডায়েবিটিস, ওবেসিটি এবং কার্ডিওভাসকিউলার রোগ করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে সক্ষম বলে পূর্বে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যদিও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা অলস জীবনযাপন এগুলির মধ্যে অন্যতম না-হলেও, নানান দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনাময় প্রভাব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন গবেষকরা। সে ক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২০-র মধ্যে ৪৮,৪৪০ জন নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে। হাসপাতালে ভরতির হার, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা এবং মৃত্যুর হারের নিরিখে বিষয়টি বিচার করে দেখা হয়েছে।

এই রোগীদের গড় বয়স ছিল ৪৭, যাঁর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ বা ৬৭ শতাংশ ছিলেন মহিলা। বিএমআই ইন্ডেক্স অনুযায়ী তাঁদের ওজন ৩১ (ওজন- ১৪৮ পাউন্ড বা প্রায় ৬৮ কেজি)। যা ওবেস অথবা মেদবহুল হিসেবে চিহ্নিত। আবার প্রায় অর্ধেক রোগীদের মধ্যে ডায়েবিটিস, সিওপিডি, কার্ডিওভাসকিউলার ডিসিস, কিডনির সমস্যা বা ক্যানসারের মতো কোনও রোগই ছিল না। প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন (১৮ শতাংশ) আক্রান্তের ক্ষেত্রে এগুলির মধ্যে কোনও একটি সমস্যা পাওয়া গিয়েছে। আবার প্রায় ৩ জন রোগীর (৩২ শতাংশ) মধ্যে দুটি বা তার চেয়ে বেশি রোগ পরিলক্ষিত হয়েছে।

গবেষকরা জাতি, বয়স এবং আন্ডারলাইং মেডিক্যাল কন্ডিশানের মতো প্রভাবশালী বিষয়গুলিকেও গ্রাহ্য করেছেন। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যাঁরা সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের শারীরিক কসরৎ বা কার্যকলাপে লিপ্ত তাঁদের তুলনায় অলস করোনা আক্রান্ত রোগীর হাসপাতালে ভরতি হওয়ার প্রবণতা দ্বিগুণ। এমন রোগীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশের ইনটেনসিভ কেয়ারের প্রয়োজন পড়ে। আবার সমীক্ষা অনুযায়ী, এঁদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনাও আড়াই গুণ বেশি।

শতকরা হারে বিচার করলে, ধারাবাহিক ভাবে অলস রোগীদের ২০ শতাংশের মধ্যে হাসপাতালে ভরতি হওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আবার ১০ শতাংশের ইনসেনটিভ কেয়ারের প্রয়োজন পড়ে। ৩২ শতাংশের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে এমন রোগী, যাঁরা নিয়মিত শারীরিক কসরৎ করে থাকেন, তাঁদের মধ্যে এই সম্ভাবনা কম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাইসার পার্মানেন্টে মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা জানান যে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক পরীক্ষা এবং এটি কোনও কারণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আবার রোগীদের দ্বারা বর্ণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত।

গবেষকরা বলেন, ‘আমরা জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেব, মৃত্যু-সহ কোভিড-১৯ -এর নানান জটিলতা প্রতিরোধ করার জন্য তাঁরা যেন জনসাধারণকে ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি, টিকাকরণ, মাস্কের ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার বিষয় আরও সচেতন করে তোলেন।’

 

Loading...
error: Content is protected !!
Share via
Copy link
Powered by Social Snap